Tuesday, December 24, 2019

15




টেবিলের ওপর খালি বোতল, নির্জলা,
অলস তৃষ্ণার্ত চোখে নিবদ্ধ হয়ে অপ্রস্তুত ।
দ্যুতিময় বৃষ্টিকনা ঝরে বাইরে সর্বত্র,
অলস দৃষ্টি খালি বোতলটিতে এখনও,
হয়ত স্মৃতির দেশকাল নিয়ে নত নজর I

তিনটেবিল পেরোলেই সুন্দরী, অপার্থিব আকর্ষন, 
সম্ভবত জীবনের দিকেই,
চোখ টানে, নজর আসে যায় ৷
এড়ানো যায় না, নড়ানো যায় না, 
উত্তেজিত আক্ষেপিত মন, অনড় ৷



এ আকর্ষন বলবিদ্যা মানে ? আমি নিশ্চিত নই, 
কেন কেন কেন করে পিছিয়ে পিছিয়ে,
এখানে শক্ত জমি পাব কি আদৌ ?
তবু কেনদের লম্বা সারি পড়েছে,
 বাইরে থেকে ভেতরে আসতে চায়, 
 মাথা নাড়ি, জোরে জোরে বলি 'না'৷ জানতে চাই না ৷

বাইরে বৃষ্টিপাত, সামনে শূন্য জলাধার, অলস চোখ,
দিনরাত বিছানার স্যাঁতস্যাঁত, জান্তব গন্ধময়,
এইসব নিজের বলে, বা নিজেকে বলে, মেনে নিচ্ছি ।
 ভাবছি ভালবাসার এই কি প্রথম পদক্ষেপ ?
মৃত্যুদণ্ডাদেশ-প্রাপ্তজন যেভাবে অপেক্ষায় থাকে,
একাগ্র একটি গল্পের সমাপ্তি নিয়ে ভাবে, সেভাবেই ৷











14

১.
 দুপুর রোদে গাছটির নীচে সীমিত ছায়া,
 ব্যাগ পাশে নামিয়ে রেখে,
 খামখেয়ালী বসে থাকতে ভালো লাগে ,
 রোদছায়া ধুলোমাটির রঙ বদলায় ৷


২.
চোখে মাপি তোমার দেহ, দেহবল্লরী,
শুষ্ক প্রান্তর রূক্ষ, শুধু সবুজে স্নিগ্ধতা,
বসে দেখি, চেনা মানুষের মুখ মনে পড়ে ,
রুগ্নদেহ-কর্মীর মুখে, যেমন কর্মতৃপ্তির ছাপ থাকে ৷




 ৩.
আমার কাজ আছে, অকর্মের আক্ষেপ আছে,
 কতক্ষন আর তোমার মুখোমুখী থাকব বসে ?
 সামান্যই ছায়া, স্বাগ্নিক রোদে অনিশ্চয়তার ভয়,
 মাঝের মুহুর্তটুকু, মিথ্যা উত্তেজনা-সম্বল, থাকি বসে |



 
 
 

Friday, December 20, 2019

১৩

সমুদ্র আকাশ নদী, বসন্তের বাতাস,
দিগন্তপ্রসারিত মাঠের দুরগামী আলপথ,
শীত-কুয়াসার ভোরে  গেঁয়ো পথে
কিশোরটির চোখে সদ্য ভাঙা স্বপ্নের রেশ,
শ্রাবণ-মেঘের কালো আকাশে
ধানসিড়ির সোনালী ডানার চিল,
 এইসব ; 
নিতান্ত নষ্টালজিক, অলীক দেশে ,একা একা,
 পালিয়ে বেড়ানোর চেষ্টা,স্বার্থপর, 
যেন নিজেকেই ভয় পাই , মনে হয় ৷

অথচ,

দৈনিক  শহুরে উপাদান কলমের মুখে ,
 যান্ত্রিক, আরও ভীতিপ্রদ হয়ে ওঠে,
পিচ-ঢালা রাস্তা ঘিরে  কংক্রিট,
 তার চতুর্দিক জুড়ে ব্যবসা ।
হাসি কান্না নিয়ন্ত্রিত হয় ব্যস্ততায়, 
সব মানবিক প্রশ্ন প্রতিপ্রশ্নে,
 নর্দমার গন্ধ মেখে এখানেই 
 প্রতীক্ষায় বসে থাকে উত্তর, শেষটা ৷
 সাধারনত এর মাঝে, আমার বোজা চোখ,
 ও উত্তর এড়িয়ে বসবাস ৷

Thursday, December 19, 2019

12



দুরে কোথাও সূর্য ডুবছে,
অনন্ত অপরিচিতির অরণ্যে ,
 বর্ণীল বৃত্ত, একটি চেনা সূর্য ৷
আমার সামনে ট্রেন লাইন,
পাশে ফুটপাত জুড়ে বসে আছে,
পরাজিত মানুষের  দীর্ঘ ভগ্নাংশ,
এদের মধ্যে কপালকুণ্ডলাকে খুঁজছি ৷

তার সঙ্গে আমার দেখা হয় যতবার,
 বস্তি-ঘরে তার শিশুটি কেঁদে ওঠে ততবারই
 বড় ব্যস্ত পায়ে, কপালকুণ্ডলা, তখন,
 বসন্ত-বাতাসের উচ্ছাসে, দ্রুত পাড়-ভাঙে,
 রেললাইনের জংধরা দুটি পাতে, 
 চিকচিকে শুকনো রক্তের ইতিহাস বিবৃত করে ,
ও আরো একবার  ফেনিল ঢেউয়ে মিশে যায়   ৷







Thursday, December 12, 2019

১১



এই নির্জন ভুতুড়ে জায়গায়, 
যে দাঁড়িয়ে আছে একা,
তাকে ভয় দেখানো,
ভয় দেখিয়ে ব্যঙ্গ করা, করুণা করা সোজা,
যখনই পায়ে পায়ে তাকে অতিক্রম করে যাও ৷



নদীর কোনো অরণ্য-সংলগ্ন বাঁকে, ভেব দেখ 
মুহুর্ত কয়েকও যদি থাকে গন্তব্য-বিমুখ প্রহর,
তখনও, তাকে একা করে রেখে,
চরৈবেতির মন্ত্র, পদধ্বনী, স্রোত-শব্দ শুধু,
কেন ফেলে যাও সময়ের জালে ?







Tuesday, December 10, 2019

10



দুরেদুরে গানশোনা সমুদ্র পারাপার,
জেলেডিঙি ছোট হয়ে হয়ে, ভেসে চলে যায়,
চেনা ছন্দমিল ভাঙে পরিচিতির প্রিয় উপকূল,
জল-ডাঙার চিরকালীন শক্রতার গল্প এমন ৷

তারপর , কোনো স্নিগ্ধ স-নায়িকা স্বপ্নে ,
শৈশব-সিক্ত বাতাসের ছোঁয়া পাই,
ভোরের আলোয় চোখ খুলে খুঁজি,
আবারও, এজীবন একবার ৷

ভাঙাগড়া; এই অন্বেষন,
হয়ত অনিন্দ্য , হয়তবা সর্বকান্তময় ।


Tuesday, December 3, 2019

9


কত কবিতা লিখলাম, ধুয়ে গেল, তা যাক । বাইরে বের করে রাখি তাই ধুয়ে যায় ঝড়জলে, নইলে হিমঘর হৃদয়, জমে থেকে একদিন যাবে, নর্দমামুখী সমুদ্রের ঢেউ ৷


বাড়ি থেকে ফোন আসে মায়ের, বাবার, ধীর অপেক্ষা, এ পৃথিবীর আমার I কমে কমে থমথমে গীটারের সুর, পাশের রুম থেকে ব্যর্থ প্রেম খুঁজে চলেছে গলায়, প্রেম-শৃঙ্খল; দড়ি |



ভেবে দেখ আমাকে বলা যায় ? অশ্রুপাতে ছোটবড় ফোঁটায় ধুয়ে যায় না কি পরিচয় ? অথবা জীবনের অশালীন দাগ ? আমি কি স্বার্থপর ? ভেবে দেখ বলা যায় ?



এই ভোররাতে তালগাছ, ধুপ করে তাল পড়ে, ভাবি সর্বনাশ; রাতের বাঁধন এত আলগা হয় ! প্রবোধ পাগল, চোখ টিপে বলে, না, এ শুধু শীতের শিশিরে ঘটে ।