জানতাম না লোকটা কে
বা কূয়াশায় কী করছিল,
তার গান ভাসছিল ধোঁয়ার কুন্ডলী পাকিয়ে,
অনুন্নত আধোচেনা ভাষায় বিচিত্র অচেতন সুরে
আমার কাঁচের জানলার বাইরে |
তার সুর আমাকে মনে করাচ্ছিল
"দূরদ্বীপবাসিনী'' একটা ফুলের কথা,
ভীষন বন্য সৌন্দর্য তার ম ম করা গন্ধে
নষ্টালজিক ভোরের আলোয়
রীতিমত রোম্যান্টিক আবেগ জাগানোর মত ৷
মাঝে তাল ভেঙ্গে কাশির শব্দ এল,
আমি পর্দা টেনে দিয়ে বসলাম সুরটা নিয়ে
স্বর্গীয় অনুভূতিরা পরপর
প্রভাতী চড়াই পাখীর মত ঝাঁক বেঁধে
নামল আমার সুরেলা খাতায় |
একটু পরে কুয়াশা কেটে গেল
বাইরের রোদ ঘরের শীততাপ অনিয়ন্ত্রিত করার
ব্যর্থ চেষ্টা শুরু করল,
টিভিতে শুনলাম কুয়াশার লোকটা মরে গেছে
নর্দমার বিষাক্ত গ্যাসে |
সাধক নেতা বললেন , ভগবান এসেছিলেন
হাল্কা পায়ে প্রেয়সীর মত একান্তে
কুয়াশার লোকটার সঙ্গে দেখা করতে ,
তাই সে শহীদ হয়েছে ,
আমার জানালার নীচে নর্দমা সাফ করতে গিয়ে |
সেদিন থেকে আজ অব্দি অপেক্ষা করছি
ভগবান হয়ত আমার শয়নকক্ষেও আসবেন ,
নিভৃতে দায়িত্ব ন্যস্ত করে যেতে,
স্বপ্ন-সত্যি-কল্পনা , স্বর্গ-মর্ত-পাতাল
সেদিন নির্দ্বিধায়় মিশবে ইশ্বর-পৃথিবী-ভালোবাসায় |
এখনও মাঝে মাঝে কুয়াশা হলে ,
কানে একটা অশিক্ষিত সুর আসে
কাঁচ আর বাতাসের শব্দতরঙ্গ হয়ে |
তবে এ নিতান্ত জমাদার , বেতনে কাজ করে
ইশ্বরের দেখা পায়নি, তাই না মরে দিব্যি বেঁচে আছে |
No comments:
Post a Comment